Home Blog

ভ্রমণে নতুন জায়গায় ঘুম আসে না? কাজে লাগতে পারে কিছু উপায়

0

নতুন শহর, নতুন হোটেল বা নতুন বাসায় পৌঁছানোর পর অনেকেই একটি সমস্যার মুখোমুখি হন—ঘুম আসে না। সারাদিনের ভ্রমণের ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে হয়। আবার কারও ঘুম এলেও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। নতুন পরিবেশে প্রথম রাতের ঘুম অনেকেরই স্বাভাবিক হয় না। বিশেষজ্ঞরা একে কখনো কখনো ‘ফার্স্ট নাইট ইফেক্ট’ বলেও উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, নতুন পরিবেশে মস্তিষ্কের একটি অংশ কিছুটা সতর্ক অবস্থায় থাকে।

প্রথম রাতেই নিখুঁত ঘুমের আশা করবেন না
নতুন জায়গায় পৌঁছেই যদি মনে করেন আজ অবশ্যই আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে, তাহলে উল্টো চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথম রাতে কিছুটা কম ঘুম হওয়া স্বাভাবিক। তাই ঘুম না আসা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে শরীরকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া ভালো।

পরিচিত রুটিন ধরে রাখার চেষ্টা করুন
বাড়িতে ঘুমানোর আগে যদি বই পড়েন, হালকা গান শোনেন, চা পান করেন বা অন্য কোনো অভ্যাস থাকে, ভ্রমণেও সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। পরিচিত রুটিন অনেক সময় মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে এখন বিশ্রামের সময়।

ঘরের আলো ও তাপমাত্রা নিজের মতো করে নিন
হোটেল ঘরে অনেক সময় অতিরিক্ত আলো থাকতে পারে। কোথাও আবার ঘর বেশি ঠান্ডা বা গরম লাগতে পারে। ঘুমানোর আগে পর্দা টেনে দেওয়া, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কম্বল ব্যবহার করা বা কক্ষের তাপমাত্রা ঠিক করে নেওয়া স্বস্তি বাড়াতে পারে।

পরিচিত কোনো জিনিস সঙ্গে রাখতে পারেন
অনেক নিয়মিত ভ্রমণকারী নিজের বালিশ না হলেও বালিশের কভার, ছোট একটি কম্বল বা পরিচিত কোনো জিনিস সঙ্গে রাখেন। শুনতে তুচ্ছ মনে হলেও পরিচিত গন্ধ বা পরিচিত অনুভূতি নতুন পরিবেশে স্বস্তি এনে দিতে পারে।

ঘুমানোর আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
নতুন শহরে গিয়ে স্থানীয় খাবার চেখে দেখার আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী বা মশলাদার খাবার খেলে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণের পর শরীর ক্লান্ত থাকলে হালকা খাবার অনেকের জন্য বেশি আরামদায়ক হয়।

ফোন স্ক্রল করতে করতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না
ঘুম না এলে অনেকেই ফোন হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতে শুরু করেন। কিন্তু এতে ঘুম আরও পিছিয়ে যেতে পারে। বরং আলো কমিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া, বই পড়া বা শান্ত কোনো অডিও শোনা তুলনামূলক বেশি সহায়ক হতে পারে।

দিনের বেলা কিছুটা বাইরে বের হন
নতুন জায়গায় পৌঁছে পুরো দিন ঘরে কাটালে রাতে ঘুম আসতে সমস্যা হতে পারে। সম্ভব হলে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করুন। দিনের আলোতে সময় কাটানো শরীরকে নতুন পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

ঘড়ি দেখতে থাকবেন না
রাত দুইটায় ঘুম ভেঙে গেল। এরপর প্রতি ১০ মিনিট পরপর সময় দেখছেন—এটি অনেকেরই পরিচিত অভ্যাস। কিন্তু এতে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। কখন ঘুম আসবে, তা নিয়ে চিন্তা করার বদলে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করা ভালো।

প্রয়োজনে ইয়ারপ্লাগ বা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করুন
নতুন জায়গার শব্দও অনেক সময় ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। পাশের ঘরের শব্দ, রাস্তার যানবাহন কিংবা হোটেলের করিডোরের আওয়াজ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এক্ষেত্রে ইয়ারপ্লাগ বা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন কাজে আসতে পারে।

পৌঁছেই ঘুমিয়ে পড়বেন না
দীর্ঘ যাত্রার পর বিছানা দেখলেই ঘুমাতে ইচ্ছা করতে পারে। কিন্তু যদি স্থানীয় সময় বিকেল বা সন্ধ্যা হয়, তাহলে কয়েক ঘণ্টা জেগে থাকার চেষ্টা করা ভালো। এতে শরীর দ্রুত নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং রাতের ঘুমও তুলনামূলক স্বাভাবিক হতে পারে।

ঘুম না এলে আতঙ্কিত হবেন না
অনেক সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ঘুম না আসা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা। ‘আগামীকাল সকালে কাজ আছে’, ‘এখনো ঘুম এলো না’—এ ধরনের চিন্তা ঘুমকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে। প্রথম রাতে কম ঘুম হলেও সাধারণত শরীর এক-দুই দিনের মধ্যে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তাই ঘুম না এলে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়াই ভালো।

ভ্রমণে নতুন জায়গায় ঘুমের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু ছোট প্রস্তুতি ও অভ্যাস নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াকে সহজ করতে পারে। আর অনেক ক্ষেত্রে, প্রথম রাতটা পার হয়ে গেলে সমস্যাটিও নিজে থেকেই কমে আসে।

সৌদি আরবের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভিশন ২০৩০-এর মেগা প্রজেক্ট

0

সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্র, যা বর্তমানে তেল-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বের একটি প্রধান অর্থনৈতিক, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

সৌদি আরবের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : এটি আরব উপদ্বীপের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এর পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং পূর্বে পারস্য উপসাগর।

পবিত্র ভূমি: ইসলাম ধর্মের দুটি সবচেয়ে পবিত্র শহর মক্কা এবং মদিনা এই দেশেই অবস্থিত।

ভিশন ২০৩০: যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব তাদের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দিতে ভিশন ২০৩০ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

সৌদি আরবের ইতিহাস

১. আদি ইতিহাস ও বেদুইন সংস্কৃতিপ্রাচীনকাল থেকেই আরব উপদ্বীপের এই অঞ্চলটি যাযাবর বেদুইনদের আবাসস্থল ছিল। প্রাচীন ধূপ ও মসলা বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান রুট ছিল এই মরুভূমি।

২. প্রথম ও দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র (১৭৪৪ – ১৮৯১)১৭৪৪ সালে দিরিয়াহ অঞ্চলের আমির মুহাম্মদ বিন সৌদ এবং ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহাবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের সূচনা হয়। পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পতন ঘটে।

৩. আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা (১৯৩২)আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সৌদ (যিনি ইবনে সৌদ নামে পরিচিত)। তিনি ১৯০২ সালে রিয়াদ পুনরুদ্ধার করেন এবং দীর্ঘ ৩০ বছরের সংগ্রামের পর ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নজদ ও হেজাজ অঞ্চলকে একত্রিত করে সার্বভৌম ‘কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই দিনটিই সৌদির জাতীয় দিবস।

৪. তেল আবিষ্কার ও সমৃদ্ধি (১৯৩৮)১৯৩৮ সালে দাহরানে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল আবিষ্কৃত হয়। মার্কিন তেল কোম্পানি আরামকো (Aramco)-র সহায়তায় সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়, যা মরুভূমির এই দেশটিকে রাতারাতি পৃথিবীর অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সৌদি আরব তাদের ইসলামিক ঐতিহ্য ও আরব্য সংস্কৃতি কঠোরভাবে বজায় রাখে।

ঐতিহ্যবাহী পোশাক: পুরুষরা ‘থাওব’ (লম্বা সাদা আলখাল্লা) এবং মাথায় ‘শিমঘ’ বা ‘ঘুতরা’ পরেন। নারীরা ঐতিহ্যগতভাবে ‘আবায়া’ পরিধান করেন, তবে বর্তমান নিয়মে পোশাকের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে।

আতিথেয়তা ও গাহওয়া: সৌদি সংস্কৃতির প্রধান ভিত্তি হলো অতিথিপরায়ণতা।অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী আরবি কফি ‘গাহওয়া’ এবং খেজুর দিয়ে বরণ করে নেওয়া এখানকার প্রাচীন নিয়ম।

স্থাপত্য ও লোকনৃত্য: মাটির তৈরি দুর্গ ও প্রাচীন আরব্য স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন রিয়াদের ‘মাসমাক দুর্গ’। এছাড়া তরবারি নিয়ে পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘আরদাহ’ সৌদির জাতীয় উৎসবগুলোর একটি বড় অংশ।

বর্তমান মেগা প্রজেক্ট এবং আধুনিকতা (ভিশন ২০৩০)

তেল-পরবর্তী যুগের প্রস্তুতি হিসেবে সৌদি আরব বর্তমানে বিনোদন, পর্যটন ও প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

নিওম (NEOM) ও দ্য লাইন: লোহিত সাগরের উপকূলে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মেগাসিটি ‘নিওম’, যার অন্যতম অংশ ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সোজা শহর ‘দ্য লাইন’।

পর্যটন উন্মোচন: আল-উলা (AlUla)-র মতো প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান এবং লোহিত সাগরের বিলাসবহুল রিসোর্টগুলো এখন বিশ্ব পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আরব আমিরাত: পৃথিবীর বুকে জন্ম দিয়েছে যত বিস্ময়

১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর, ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়া এক দেশের নাম ইউনাইটেড আরব আমিরাত, তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির বয়স বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র কয়েকদিন বেশি। কিন্তু দক্ষ নেতৃত্ব আর তেলের উচ্চমূল্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরব আমিরাত তাদের অর্থনীতিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী পর্যটন শিল্প। মাটির নিচের তেল ফুরিয়ে আসলেও কিংবা তেলের মূল্য হ্রাস পেলেও যাতে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে না পড়ে, তার সুদৃঢ় ব্যবস্থা করে ফেলেছে দেশটির প্রসাশন। সম্প্রতি দেশটির প্রশাসন ‘Fourth Industrial Revolution’ এর ব্যাপারে তাদের জাতীয় কৌশলপত্রও ঘোষণা করেছে। ক্রমান্বয়ে শুধু আরব বিশ্ব নয়, সারা পৃথিবীকে ছাড়িয়ে যাবার দৌড়ে নেমেছে যেন আরব আমিরাত।

পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক মন্ত্রী
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত কৌশলপত্রে আরব আমিরাতকে সমৃদ্ধ করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু নীতি প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত হয়নি আমিরাত সরকার, ২৭ বছর বয়সী তরুণ উমার বিন সুলতান আল উলামাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম।

মূলত আরব আমিরাতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চর্চা আর গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পৃথিবীর প্রথম ফ্লাইং ট্যাক্সি সার্ভিস
আরব আমিরাত শুরু থেকেই তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছে। প্রশস্ত রাস্তা, সুপার হাইওয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আছে আমিরাতের। কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে হয়তো বাকি ছিলো এই একটি পদক্ষেপ। দীর্ঘপথ খুব অল্প সময়েই পাড়ি দেয়া যাবে ফ্লাইং ট্যাক্সিতে চড়ে। কল্পবিজ্ঞানের বই থেকে উড়ন্ত এই ট্যাক্সিগুলোকে যেন একদম বাস্তবে নিয়ে এসেছে দুবাইয়ের প্রশাসন।

Autonomous Air Taxi (AAT) নামে পরিচিত এই ট্যাক্সি সার্ভিস পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্বনিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সি সার্ভিস। বিদ্যুতচালিত এই উড়ন্ত ট্যাক্সি চলেও দুরন্ত গতিতে। এই ট্যাক্সি গড়ে পঞ্চাশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আধঘণ্টায়।

অত্যাধুনিক এই ট্যাক্সির সাহায্যে আবুধাবি থেকে দুবাই পৌঁছানো যাবে মাত্র ১২ মিনিটেই। এর ফলে জনসাধারণের কর্মঘন্টা বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে দ্রুতগতি। পরীক্ষামূলকভাবে চালু এই প্রকল্প দ্রুত সময়ের মধ্যেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামাদান বিন মোহাম্মদ।

শিক্ষায় বাড়ছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ
অবকাঠামো বিনির্মাণ কিংবা পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি আরব আমিরাতের লক্ষ্য এখন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে আরব আমিরাত ‘One Million Arab Coders‘ নামক এক প্রকল্প শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।

‘ওয়ান মিলিয়ন আরব কোডার’ এই প্রকল্পের আওতায় পুরো আরব আমিরাতজুড়ে এক মিলিয়ন তরুণকে প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। তারা আগামী দিনে আরব আমিরাতের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে যোজন যোজন দূরে এগিয়ে নেবেন বলে এই প্রকল্প পরিচালকদের আশা। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে আমিরাত প্রশাসন। রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় চল্লিশ শতাংশই ব্যয় হবে সামাজিক উন্নয়নে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকবে মোট বাজেটের ১৭ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো আরব দেশের চাইতে বেশি।

পুলিশের দায়িত্ব পালন করবে রোবট
সিনেমা কিংবা কল্পকাহিনীর রোবোকপকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে আরব আমিরাত। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় রোবট অন্তর্ভুক্তি আমূল পরিবর্তন এনেছে দেশটিতে। নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে দুবাই পুলিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই যান্ত্রিক পুলিশকে।

ভুল জায়গায় পার্ক করা গাড়ি থেকে শুরু করে জরিমানা করা- সবই করতে পটু এই রোবট পুলিশ। পাশাপাশি ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে মানুষকেও শনাক্ত করতে পারবে রোবট পুলিশের এই দল। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার করে সিদ্ধান্তও নিতে পারবে এই পুলিশ। দুবাই পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার খালিদ নাসের আল রাজুকি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,

অনলাইন শপিংয়ের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে আমিরাত
দুবাইতে যারা বেড়াতে যান, তারা মোটেই খালি হাতে ফিরে আসেন না, কিনে নিয়ে আসেন একগাদা জিনিস। আমিরাতের অর্থনীতিও এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় শপিংমলগুলোও তাই ঠাঁই গেড়ে নিয়েছে দুবাইয়ে। তবে বড় বড় শপিংমলের পাশাপাশি অনলাইন শপিংকেও দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে আমিরাত। দুবাইয়ে ঘুরতে এসে শপিং মলে সময় নষ্ট করতে চান না এমন পর্যটকরাও যাতে হাতের নাগালেই সব শপিং করতে পারেন, তাই আরব আমিরাত গুরুত্ব দিচ্ছে ই-কমার্সের প্রতি।

ত্রিমাত্রিকভাবে প্রিন্ট করা অফিস ভবন
২,৭০০ বর্গ ফুটের একটি অফিস ভবন তৈরি করতে সময় লেগেছে মাত্র সতের দিন আর মানুষ লেগেছে মাত্র আঠার জন! থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের সহায়তা নিয়ে খুব কম সময় আর লোকবল ব্যবহার করেই দুবাইতে নির্মিত হয়েছে এমন ভবন।

ভবনটি উদ্বোধনের সময় দুবাইয়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম বলেন,

“দুবাইকে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবেই বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে এই থ্রি-ডি প্রিন্টেড বিল্ডিংকে।”

বর্তমানে এই ভবনটি দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশনের অফিস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। অচিরেই এটিকে এক্সিবিশন, ওয়ার্কশপ এবং অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে আমিরাত প্রশাসন।

আকাশচুম্বী ভবনের রাজ্যে স্বাগতম
শুধু দুবাই শহরজুড়েই আছে ১,৩৪৪টি আকাশচুম্বী ভবন। ৮২৮ মিটার উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা ভবন বুর্জ খলিফা তো এই শহরের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৃথিবীর উচ্চতম ক্রেনগুলোর এক-চতুর্থাংশই কাজ করছে দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবন তৈরিতে। এই উচ্চতম ভবনগুলোতেই গড়ে উঠছে অফিস, বাসা কিংবা বিলাসবহুল হোটেল।

 

পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ
আকাশের বুকে ঘর বানিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি আমিরাতবাসী, পারস্য উপসাগরের কূলে ৫২০ কিলোমিটার জুড়ে তারা বানিয়েছে কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ। দেখতে অনেকটা পাম গাছের মতো এই দ্বীপপুঞ্জের নাম ‘পাম জুমেইরাহ’।

পাম জুমেইরাহ পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ। এটি নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন দুবাইয়ের আবাসন সংকটের সমাধান হবে, তেমনি অন্যদিকে পৃথিবীজুড়ে লাখো পর্যটকের গন্তব্য হয়ে উঠবে। প্রস্তুত করা হয়েছে চার হাজারের অধিক বিলাসবহুল কটেজ। মূলভূমির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কারণেই এটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দুবাইয়ের মূল আকর্ষণ।

বিলাসবহুল পাম জুমেইরাহ

কৃত্রিমভাবে নির্মিত দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত আর বিলাসবহুল নৌকায় সুসজ্জিত এই দ্বীপ ছুটি কাটানোর জন্য অনেক ধনকুবেরের স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

আর এভাবেই তেলভিত্তিক অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটনশিল্পের বিকাশ করে উন্নয়নের পথে সমসাময়িক সময়েই স্বাধীন হওয়া কিংবা তেলের উপর নির্ভরশীল বাকি আরব দেশগুলোর চেয়ে যোজন যোজন দূর এগিয়ে গেছে ইউনাইটেড আরব আমিরাত।

দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’

0

দুবাই বিশ্বের প্রথম ‘গোল্ড স্ট্রিট’ পাবে, যা আমিরাতের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে সোনা দিয়ে তৈরি করা হবে। সংবাদমাধ্যমের খবরে একথা বলা হয়েছে।

আরও বিস্তারিত ‘পর্যায়ক্রমে’ প্রকাশ করা হবে। ইথরা দুবাই আনুষ্ঠানিকভাবে আমিরাতের গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট চালু করার সময় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩.৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা রফতানি করে। প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ছিল সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং এবং তুরস্ক। দেশটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভৌত সোনার ব্যবসার গন্তব্য।

আমিরাতের নতুন ‘স্বর্ণের আবাস’ নামে পরিচিত এই এলাকাটি সোনা এবং গহনা সম্পর্কিত সবকিছুকে এক গন্তব্যস্থলে একত্রিত করবে।

এর মধ্যে খুচরা, সোনার মুদ্রা, পাইকারি বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ১,০০০ টিরও বেশি খুচরা বিক্রেতা রয়েছে।

জওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান এবং তানিশক জুয়েলারির মতো ফ্ল্যাগশিপগুলি ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথে ২৪,০০০ বর্গফুট ফ্ল্যাগশিপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তম হবে।

দুবাই অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগের (ডিইটি) অংশ, দুবাই ফেস্টিভ্যালস অ্যান্ড রিটেইল এস্টাব্লিশমেন্ট (ডিএফআরই) এর সিইও আহমেদ আল খাজা বলেন: ‘দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কাঠামোর সাথে সোনা গভীরভাবে মিশে আছে, যা আমাদের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি এবং উদ্যোগের স্থায়ী চেতনার প্রতীক। এই ঐতিহাসিক গন্তব্যের মাধ্যমে, আমরা কেবল সেই উত্তরাধিকার উদযাপন করি না বরং সৃজনশীলতা এবং স্থায়িত্ব দ্বারা আবির্ভূত একটি নতুন যুগের জন্য এটিকে পুনর্কল্পনাও করি।’

এক নজরে দুবাইয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

0

দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রধান ও সবচেয়ে জনবহুল শহর, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আধুনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

দুবাইয়ের পরিচিতি: পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে দুবাই অবস্থিত।রূপান্তর: একসময়ের ছোট একটি মাছ ধরার গ্রাম ও মরুভূমি আজ বিশ্বমানের বিলাসবহুল শহরে পরিণত হয়েছে।অর্থনীতি: দুবাইয়ের অর্থনীতি মূলত বাণিজ্য, পর্যটন এবং আবাসন খাতের ওপর নির্ভরশীল।

দর্শনীয় স্থান ও অর্জনবুর্জ খলিফা: ৮২৮ মিটার উচ্চতা নিয়ে এটি বিশ্বের দীর্ঘতম ভবন।পাম জুমেইরাহ: এটি একটি বিখ্যাত মানবসৃষ্ট কৃত্রিম দ্বীপ, যা পাম গাছের আকৃতিতে তৈরি।

দুবাই মল: বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শপিং মল।

দুবাইয়ের কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির পেছনের প্রযুক্তি ও ইতিহাস জানতে দুবাই এর কৃত্রিম দ্বীপগুলি কিভাবে তৈরি করা হলো ?

দুবাইয়ের আজকের এই চোখধাঁধানো রূপের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ এবং সংগ্রামময় ইতিহাস। অতি অল্প সময়ে মরুভূমির বালুচর থেকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক মেগাসিটিতে রূপান্তরের এই গল্পটি সত্যিই রূপকথার মতো।

দুবাইয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য :

১. প্রারম্ভিক ইতিহাস ও মৎস্যজীবী গ্রাম (১৮ শতক)১৮ শতকের শুরুতে দুবাই ছিল মূলত পারস্য উপসাগরের তীরের একটি ছোট মাছ ধরা এবং মুক্তা সংগ্রহের গ্রাম। ১৭৯৯ সালে বনি ইয়াস গোত্রের আল আবু ফালাসা উপজাতি প্রথম এখানে বসতি স্থাপন করে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রামটি ধীরে ধীরে একটি ছোটখাটো বাণিজ্যিক বন্দরে রূপ নিতে শুরু করে।

২. আল মাকতুম রাজবংশের সূচনা (১৮৩৩)১৮৩৩ সালে শেখ মাকতুম বিন বুত্তি আল মাকতুমের নেতৃত্বে বনি ইয়াস গোত্রের প্রায় ৮০০ সদস্য আবু ধাবি ছেড়ে দুবাই ক্রিক বা খাড়ির তীরে চলে আসেন। তারা কোনো রক্তপাত ছাড়াই দুবাইয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বর্তমান আল মাকতুম রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও দুবাই শাসন করে আসছে।

৩. মুক্তা শিল্প ও অর্থনৈতিক সংকট (১৯ শতক – ১৯৩০)১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের শুরুতে দুবাইয়ের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল মুক্তা ব্যবসা।মুক্তার স্বর্ণযুগ: তৎকালীন সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক মুক্তা পাওয়া যেত দুবাইয়ের সমুদ্রে।অর্থনৈতিক ধস: ১৯৩০-এর দশকে কৃত্রিম মুক্তা আবিষ্কার এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার (Great Depression) কারণে দুবাইয়ের মুক্তা শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।

৪. তেল আবিষ্কার ও আধুনিকায়নের শুরু (১৯৬৬)১৯৬৬ সালে দুবাইয়ের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যায় যখন সেখানে সমুদ্রের তলদেশে তেল আবিষ্কৃত হয়। তৎকালীন দূরদর্শী শাসক শেখ রশিদ বিন সাইদ আল মাকতুম তেলের লভ্যাংশ সরাসরি দুবাইয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তেলের মজুদ সীমিত, তাই তিনি দুবাইকে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাস্টারপ্ল্যান করেন।

ক্রিক খনন: তেলের টাকা দিয়ে দুবাই ক্রিক বা খাড়িকে গভীর করা হয়, যাতে বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ঢুকতে পারে।দুবাই এয়ারপোর্ট ও পোর্ট রশিদ: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম বন্দর তৈরি করা হয়।

৫. সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠন (১৯৭১)১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দুবাই, আবু ধাবি এবং আরও ৫টি আমিরাত মিলে একসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) গঠন করে। এর ফলে দুবাইয়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়।

দুবাইয়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আধুনিকতার চূড়ায় পৌঁছালেও দুবাই তাদের মূল বেদুইন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে খুব যত্ন সহকারে টিকিয়ে রেখেছে।

বেদুইন জীবনধারা: আরবের আদি বাসিন্দা বা বেদুইনদের আতিথেয়তা আজ দুবাইয়ের সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অংশ। কড়া সুগন্ধি আরবি কফি (গাহওয়া) এবং খেজুর দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা দুবাইয়ের প্রাচীন ঐতিহ্য।

বাজপাখি পালন (Falconry): মরুভূমিতে শিকারের জন্য বাজপাখি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এটি দুবাইয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা এবং আভিজাত্যের প্রতীক।

উট দৌড় (Camel Racing): মরুভূমির ঐতিহ্যবাহী এই দৌড় প্রতিযোগিতা দুবাইয়ে এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কোটি টাকার টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।

ঐতিহ্যবাহী পোশাক: পুরুষরা সাদা রঙের লম্বা পোশাক যাকে ‘কান্দুরা’ বা ‘থোব’ বলা হয় এবং নারীরা কালো রঙের ‘আবায়া’ পরিধান করেন।

আল ফাহিদি ঐতিহাসিক এলাকা: দুবাইয়ের প্রাচীন স্থাপত্য কেমন ছিল, তা দেখতে পর্যটকেরা এই এলাকায় যান। এখানকার মাটির তৈরি বাড়ি এবং প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের জন্য তৈরি ‘উইন্ড টাওয়ার’ (Wind owers) দুবাইয়ের প্রাচীন প্রকৌশলের নিদর্শন।