সৌদি আরবের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভিশন ২০৩০-এর মেগা প্রজেক্ট

সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্র, যা বর্তমানে তেল-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বের একটি প্রধান অর্থনৈতিক, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

সৌদি আরবের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : এটি আরব উপদ্বীপের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এর পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং পূর্বে পারস্য উপসাগর।

পবিত্র ভূমি: ইসলাম ধর্মের দুটি সবচেয়ে পবিত্র শহর মক্কা এবং মদিনা এই দেশেই অবস্থিত।

ভিশন ২০৩০: যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব তাদের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দিতে ভিশন ২০৩০ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

সৌদি আরবের ইতিহাস

১. আদি ইতিহাস ও বেদুইন সংস্কৃতিপ্রাচীনকাল থেকেই আরব উপদ্বীপের এই অঞ্চলটি যাযাবর বেদুইনদের আবাসস্থল ছিল। প্রাচীন ধূপ ও মসলা বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান রুট ছিল এই মরুভূমি।

২. প্রথম ও দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র (১৭৪৪ – ১৮৯১)১৭৪৪ সালে দিরিয়াহ অঞ্চলের আমির মুহাম্মদ বিন সৌদ এবং ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহাবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের সূচনা হয়। পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পতন ঘটে।

৩. আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা (১৯৩২)আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সৌদ (যিনি ইবনে সৌদ নামে পরিচিত)। তিনি ১৯০২ সালে রিয়াদ পুনরুদ্ধার করেন এবং দীর্ঘ ৩০ বছরের সংগ্রামের পর ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নজদ ও হেজাজ অঞ্চলকে একত্রিত করে সার্বভৌম ‘কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই দিনটিই সৌদির জাতীয় দিবস।

৪. তেল আবিষ্কার ও সমৃদ্ধি (১৯৩৮)১৯৩৮ সালে দাহরানে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল আবিষ্কৃত হয়। মার্কিন তেল কোম্পানি আরামকো (Aramco)-র সহায়তায় সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়, যা মরুভূমির এই দেশটিকে রাতারাতি পৃথিবীর অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সৌদি আরব তাদের ইসলামিক ঐতিহ্য ও আরব্য সংস্কৃতি কঠোরভাবে বজায় রাখে।

ঐতিহ্যবাহী পোশাক: পুরুষরা ‘থাওব’ (লম্বা সাদা আলখাল্লা) এবং মাথায় ‘শিমঘ’ বা ‘ঘুতরা’ পরেন। নারীরা ঐতিহ্যগতভাবে ‘আবায়া’ পরিধান করেন, তবে বর্তমান নিয়মে পোশাকের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে।

আতিথেয়তা ও গাহওয়া: সৌদি সংস্কৃতির প্রধান ভিত্তি হলো অতিথিপরায়ণতা।অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী আরবি কফি ‘গাহওয়া’ এবং খেজুর দিয়ে বরণ করে নেওয়া এখানকার প্রাচীন নিয়ম।

স্থাপত্য ও লোকনৃত্য: মাটির তৈরি দুর্গ ও প্রাচীন আরব্য স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন রিয়াদের ‘মাসমাক দুর্গ’। এছাড়া তরবারি নিয়ে পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘আরদাহ’ সৌদির জাতীয় উৎসবগুলোর একটি বড় অংশ।

বর্তমান মেগা প্রজেক্ট এবং আধুনিকতা (ভিশন ২০৩০)

তেল-পরবর্তী যুগের প্রস্তুতি হিসেবে সৌদি আরব বর্তমানে বিনোদন, পর্যটন ও প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

নিওম (NEOM) ও দ্য লাইন: লোহিত সাগরের উপকূলে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মেগাসিটি ‘নিওম’, যার অন্যতম অংশ ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সোজা শহর ‘দ্য লাইন’।

পর্যটন উন্মোচন: আল-উলা (AlUla)-র মতো প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান এবং লোহিত সাগরের বিলাসবহুল রিসোর্টগুলো এখন বিশ্ব পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এই সম্পর্কীত আরও তথ্য

spot_img

Discover

spot_img

Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here