জর্ডান

spot_img
spot_img

জর্ডানে বাংলাদেশিদের চাকরির সুযোগ ও সম্ভাবনা

Subtitle

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জর্ডান বর্তমান সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও সুনামের কারণে জর্ডানের বাজারে প্রতি বছর হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বল্প খরচে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে যাওয়ার সুযোগ থাকায় জর্ডান অভিবাসীদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জর্ডানে বাংলাদেশিদের চাকরির সবচেয়ে বড় অংশটি নিয়ন্ত্রিত হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেল-এর মাধ্যমে। জর্ডানের বিখ্যাত অ্যাপারেল বা পোশাক প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে বোয়েসেল-এর মাধ্যমে দক্ষ মেশিন অপারেটর নিয়োগ দিয়ে থাকে। সাধারণত নারী গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য এখানে ব্যাপক কাজের সুযোগ রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুরুষ কর্মীদের নিয়োগ বৃদ্ধির জন্যও সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। জর্ডানের বড় সুবিধা হলো এটি একটি আইনি ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে, যেখানে কর্মীদের বিমান ভাড়া, আবাসন ও চিকিৎসার খরচ সাধারণত নিয়োগকর্তা কোম্পানিই বহন করে থাকে। কর্মীদের মাসিক মূল বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বোয়েসেল জব পোর্টাল-এর মাধ্যমে, যেখানে নিয়মিত নতুন নতুন সার্কুলার প্রকাশ করা হয়।

গার্মেন্টস খাতের পাশাপাশি জর্ডান সরকার সম্প্রতি অভিবাসী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ আরও সহজ করার জন্য নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জর্ডানে কর্মরত শ্রমিকরা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বা এক পেশা থেকে অন্য পেশায় বদলির সুযোগ পাচ্ছেন, যা দেশটিতে ফ্রিল্যান্স কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এই ধরনের সরকারি নমনীয়তা এবং নতুন নীতিমালার ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

এছাড়া জর্ডানের কৃষি, পর্যটন এবং নির্মাণ খাতেও বাংলাদেশি পুরুষ কর্মীদের নিয়োগের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে পুরুষ শ্রমিকদের জন্য জর্ডানের শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করবে।জর্ডানে কাজের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আগ্রহী প্রার্থীদের বোয়েসেল-এর আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে সরাসরি সরকারি নিয়ম মেনে ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়। পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার সার্টিফিকেট নিয়ে অনলাইনে বা সরাসরি আবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জর্ডানে চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করে জর্ডানের এই শ্রমবাজারের সুবিধা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কর্মসংস্থানপ্রত্যাশীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

আপনি কি জর্ডানের চলমান কোনো নির্দিষ্ট সার্কুলার সম্পর্কে জানতে চান, নাকি আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতার তালিকা দেখতে চান?